Logo
প্রিন্টের তারিখ: 01 November 2026 | প্রকাশের তারিখ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ৩:৩৩ পিএম

সংবাদ শিরোনাম : হারিয়ে যেতে বসেছে খেজুরের রস, কমছে গাছির সংখ্যা

হারিয়ে যেতে বসেছে খেজুরের রস, কমছে গাছির সংখ্যা

মোঃ ইনজামামুল হক (নাঈম) শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

শীত এলেই গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রসের কথা মনে পড়ে। একসময় শীতের সকালে খেজুরের রস সংগ্রহ ও খাওয়ার ধুম থাকলেও সময়ের পরিবর্তনে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলাতেও হারিয়ে যেতে বসেছে খেজুরের রস সংগ্রহের ঐতিহ্য। কমছে খেজুরগাছের সংখ্যা, সেই সঙ্গে কমছে গাছিদের ব্যস্ততাও।

একসময় শায়েস্তাগঞ্জের বিভিন্ন গ্রাম, পাড়া-মহল্লা ও সড়কের পাশে প্রচুর খেজুরগাছ দেখা যেত। শীত মৌসুম শুরুর আগেই গাছিরা খেজুরগাছ প্রস্তুত করতেন। গাছের মাথা পরিষ্কার করে নির্দিষ্ট স্থানে চাঁছ দিয়ে বাঁশের নল ও মাটির হাঁড়ি বসানো হতো। সন্ধ্যায় হাঁড়ি পেতে রাখার পর ভোরে সংগ্রহ করা হতো টাটকা খেজুরের রস। সেই রস দিয়ে তৈরি হতো পিঠা-পুলি ও সুস্বাদু গুড়।

কিন্তু বর্তমানে সেই পরিচিত দৃশ্য অনেকটাই কমে এসেছে। বিভিন্ন কারণে খেজুরগাছ কেটে ফেলা, নতুন গাছ রোপণে অনীহা এবং পেশা হিসেবে গাছির কাজের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়ায় ঐতিহ্যটি হুমকির মুখে পড়েছে।

নুরপুরের সুতাং এলাকার গাছি আব্দুল হক মিয়া বলেন, ‘শায়েস্তাগঞ্জে শিল্পাঞ্চল গড়ে ওঠায় আগের মতো খেজুরগাছ আর নেই। পাশাপাশি গাছির সংখ্যাও কমে গেছে। বর্তমানে অনেক গাছি এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন।

স্থানীয়দের মতে, আগে শীতের সকালে খেজুরের তাজা রস সংগ্রহ করতে মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ছিল। অনেক পরিবার শীতের পিঠা-পুলি তৈরিতে খেজুরের রস ও গুড় ব্যবহার করত। এখন বাজারে খেজুরের রস ও গুড় পাওয়া গেলেও আগের মতো সহজলভ্য নয়।

এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. একরাম হোসেন বলেন, বর্তমানে উপজেলায় আনুমানিক ১১০টি খেজুরগাছ রয়েছে। গত বছর কিছু খেজুরগাছের চারা প্রণোদনা হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে। সামনেও এ ধরনের প্রণোদনা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

খেজুরের রস শুধু একটি মৌসুমি পানীয় নয়, এটি গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিরও অংশ। তাই এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে খেজুরগাছ রোপণ ও সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে গাছি পেশায় উৎসাহিত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ, সরকারি সহায়তা ও জনসচেতনতা বাড়ানো গেলে শায়েস্তাগঞ্জে খেজুরগাছের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং হারিয়ে যেতে বসা খেজুরের রস সংগ্রহের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে আশা করছেন এলাকাবাসী।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ সংবাদ ৭১ বিডি
সকল কারিগরি সহায়তায়ঃ ক্রিয়েটিভ ডিজাইন
🖨️ প্রিন্ট 💾 JPG 📄 PDF