নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৫ অক্টোবর ২০২৬
গ্যাস সংকটের কারণে জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানায় আবারও ইউরিয়া সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোর ৫টা থেকে কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর উৎপাদন শুরুর মাত্র দুই দিনের মাথায় আবারও বন্ধ হলো দেশের অন্যতম বৃহৎ এই সার কারখানা।
রোববার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কারখানার উৎপাদন বিভাগের প্রধান ফজলুল হক।
কারখানা সূত্রে জানা গেছে, দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের সক্ষমতাসম্পন্ন কারখানাটি গ্যাস সংকটের কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। গত ২০ সেপ্টেম্বর গ্যাস সংযোগ পাওয়ার পর উৎপাদন শুরু হয়। তবে ৭ অক্টোবর বয়লার প্ল্যান্টে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় আবার উৎপাদন বন্ধ করতে হয়। ত্রুটি মেরামতের পর ২৩ অক্টোবর উৎপাদন পুনরায় শুরু হলেও দুই দিন যেতে না যেতেই গ্যাস সংকটে আবার বন্ধ হয়ে যায় কারখানাটি।
কারখানাটিতে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ গ্যাস সরবরাহ করে।
উৎপাদন বিভাগের প্রধান ফজলুল হক জানান, নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদনের জন্য প্রতিদিন ৪২ থেকে ৪৩ পিএসআই গ্যাসের চাপ প্রয়োজন। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী গ্যাসের চাপ না পাওয়ায় রোববার ভোর থেকে উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পুনরায় উৎপাদন শুরু হবে।
কারখানা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গ্যাস সংকট ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিভিন্ন সময়ে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার ফলে কারখানার বিভিন্ন যন্ত্রাংশে যান্ত্রিক ও কারিগরি সমস্যা দেখা দেয়, যা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রভাব ফেলে।
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) তালিকাভুক্ত ১ হাজার ৯০০ ডিলারের মাধ্যমে যমুনা সার কারখানা জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের ২১টি জেলায় সার সরবরাহ করে।
কারখানা-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, উৎপাদন চালু থাকলে প্রতি মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকার সার উৎপাদিত হয় এবং প্রায় ৬০ কোটি টাকা লাভ থাকে বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, উৎপাদন বন্ধ থাকলেও প্ল্যান্ট সচল রাখাসহ অন্যান্য ব্যয় বহন করতে হয়। শুধু গ্যাস বিল বাবদ মাসে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ের কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকলে কৃষকদের জন্য সার সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে। এতে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তবে সার সরবরাহে প্রকৃত ঘাটতি তৈরি হবে কি না, তা নির্ভর করবে মজুত, চাহিদা ও বিকল্প সরবরাহব্যবস্থার ওপর।
সূত্র: কারখানা-সংশ্লিষ্ট তথ্য ও কর্মকর্তার বক্তব্য।