যুবসমাজের সম্ভাবনা বিকাশে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও দক্ষতার আহ্বান
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ৩:১৮ পিএম
তরুণ উদ্ভাবক-উদ্যোক্তাঃ মোহাম্মদ মোশাহিদ মজুমদার
একটি দেশের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো কিংবা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে না; নির্ভর করে সেই দেশের তরুণ প্রজন্ম কতটা দক্ষ, সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী হয়ে উঠছে তার ওপর। এই উপলব্ধি থেকেই দীর্ঘদিন ধরে হবিগঞ্জে বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্ম গড়ে তোলা, প্রযুক্তি শিক্ষা বিস্তার এবং তরুণদের উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার বিভিন্ন উদ্যোগ পরিচালিত হচ্ছে।
বিজ্ঞান ক্লাবভিত্তিক কার্যক্রম, বিজ্ঞান উৎসব, অলিম্পিয়াড, রোবটিক্স ক্যাম্প, প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্পে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরির মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে সমস্যা সমাধানের মানসিকতা গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান ও রোবটিক্স একাডেমির মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাকে স্থানীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কর্মসংস্থান নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টির মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। বর্তমান সময়ে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সনদ অর্জন যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন বাস্তবমুখী দক্ষতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান, যোগাযোগক্ষমতা এবং উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা। তরুণদের এমনভাবে প্রস্তুত হতে হবে, যাতে তাঁরা নিজের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারেন।
এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে কম্পিউটার শিক্ষা, গ্রাফিক ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, ভিডিও এডিটিং, অফিস অ্যাপ্লিকেশন, ইংরেজি ভাষা ও রোবটিক্স প্রশিক্ষণের মতো কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের তরুণদের জন্য এসব প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো জরুরি।
আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে তরুণদের উদ্দেশে মোহাম্মদ মোশাহিদ মজুমদার বলেন তোমরা নিজেদের কখনো ছোট করে দেখবে না। প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই কোনো না কোনো প্রতিভা, সম্ভাবনা ও সৃজনশীলতা রয়েছে। প্রয়োজন সেই সম্ভাবনাকে চিনতে পারা এবং কাজে লাগানোর সাহস।
শুধু ভালো চাকরি পাওয়ার স্বপ্ন দেখলেই হবে না, নিজেকে এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারো, সমাজের সমস্যার সমাধান করতে পারো এবং দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারো।
সময়কে মূল্য দিতে হবে, নতুন কিছু শিখতে হবে, প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেকে আপডেট রাখতে হবে। ব্যর্থতাকে ভয় না পেয়ে প্রতিটি অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, সফলতা একদিনে আসে না; ধারাবাহিক পরিশ্রম, সততা ও ধৈর্যের মধ্য দিয়েই বড় অর্জন সম্ভব।
আমি চাই, আমাদের প্রত্যন্ত অঞ্চলের তরুণেরাও বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনে এগিয়ে আসুক। সুযোগের অভাব যেন কারও স্বপ্নের পথে স্থায়ী বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। আমরা সবাই মিলে এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে তরুণেরা শুধু পরিবর্তনের প্রত্যাশা করবে না, নিজেরাই পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেবে।”
দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক মেধাবী তরুণ রয়েছে, যাদের মধ্যে নতুন কিছু করার আগ্রহ থাকলেও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি, অর্থায়ন ও দিকনির্দেশনার অভাবে তারা নিজেদের সম্ভাবনা বিকশিত করতে পারে না। তাই সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও উদ্যোক্তাদের সমন্বিতভাবে তরুণদের জন্য কাজ করতে হবে।
বিশেষ করে উপজেলা ও গ্রামীণ পর্যায়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্লাব, উদ্ভাবনী ল্যাব, দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র এবং উদ্যোক্তা সহায়তা কার্যক্রম বাড়ানো প্রয়োজন। তরুণদের শুধু প্রশিক্ষণ দিলেই হবে না, তাদের উদ্ভাবন ও উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করতে হবে।
যুবসমাজের শক্তি শুধু তাদের বয়সে নয়, বরং তাদের চিন্তা, সাহস, সৃজনশীলতা ও দায়িত্ববোধে। সামাজিক অবক্ষয়, বেকারত্ব, পরিবেশদূষণ, প্রযুক্তিগত বৈষম্য ও শিক্ষার সীমাবদ্ধতার মতো সমস্যাগুলো সমাধানে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক যুব দিবসের মূল তাৎপর্যও এখানেই—তরুণদের কণ্ঠস্বর, নেতৃত্ব ও সম্ভাবনাকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, দক্ষ ও উদ্ভাবননির্ভর সমাজ গঠনে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
মোহাম্মদ মোশাহিদ মজুমদার বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি প্রজন্ম তৈরি করা, যারা শুধু নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাববে না; বরং পরিবার, সমাজ, দেশ ও মানবতার কল্যাণে নিজেদের মেধা ও শ্রমকে কাজে লাগাবে। তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠুক উদ্ভাবনমুখী, মানবিক ও আত্মনির্ভর বাংলাদেশ।”
মন্তব্য করুন
.png)
