কানাডায় বাংলাদেশি নারীকে মানব পাচার ও যৌন নির্যাতন, দুইজনের কারাদণ্ড
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ২:২৯ পিএম
কানাডায় কাজের অনুমতিপত্র ও স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক বাংলাদেশি নারীকে মানব পাচার, শ্রম শোষণ ও যৌন নির্যাতনের দায়ে দুই বাংলাদেশিকে কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। সাজাপ্রাপ্ত মোহাম্মদ মাসুমকে ১৪ বছর এবং সোহেল হায়দারকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
কানাডার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সিবিসি নিউজ ও সিটিভি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২২ অক্টোবর সাসকাচুয়ান প্রদেশের সাসকাটুন প্রাদেশিক আদালতের বিচারক মিগুয়েল মার্টিনেজ এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের রায়ে মোহাম্মদ মাসুমকে মানব পাচার ও যৌন নিপীড়নের তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। অন্যদিকে, সোহেল হায়দার মানব পাচারের দায়ে চার বছরের কারাদণ্ড পান।
আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ওই নারী বাংলাদেশে প্রায় ১৮ বছর সরকারি চাকরি করেছেন। কানাডায় রেস্তোরাঁয় চাকরি এবং ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাওয়ার আশায় তিনি দেশটিতে যান। ২০২২ সালের আগস্ট থেকে ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত সাসকাচুয়ানের গাল লেক, টিসডেলসহ বিভিন্ন এলাকার রেস্তোরাঁয় কাজ করেন তিনি।
আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণে উঠে আসে, ওই নারীকে সপ্তাহে ছয় দিন দীর্ঘ সময় কাজ করতে হতো। যথাযথ মজুরি না দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর কাজের অনুমতিপত্র নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি করা হয়। একপর্যায়ে মোহাম্মদ মাসুম তাঁর পাসপোর্ট নিজের কাছে রেখে দেন এবং একাধিকবার যৌন নিপীড়ন চালান। এসব অপরাধে আদালতে মাসুমের বিরুদ্ধে দোষ প্রমাণিত হয়।
পরে এলরোজ এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় কাজের অনুমতিপত্র পাওয়ার পর স্থানীয় কয়েকজনের সহযোগিতায় ওই নারী শোষণের পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। এরপর তিনি আইনি সহায়তা নেন।
কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদালত ভুক্তভোগীর বকেয়া মজুরি পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন। মোহাম্মদ মাসুমকে ১২ হাজার ২৬৮ কানাডীয় ডলার এবং সোহেল হায়দারকে ৫ হাজার ৮৮৫ কানাডীয় ডলার ১৬ সেন্ট পরিশোধ করতে হবে।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ভুক্তভোগী নারী জানান, এ ঘটনার কারণে তাঁর জীবন, সম্মান, ভবিষ্যৎ, পরিবার ও পেশাগত জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন এবং আগের মতো সহজে অন্যদের বিশ্বাস করতে পারছেন না।
ভুক্তভোগীর পরিচয় গোপন রাখতে আদালত প্রকাশনা-নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। এ কারণে সংবাদমাধ্যমগুলোতে তাঁর নাম ও পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
কানাডার এ মামলাটি অভিবাসনপ্রত্যাশী ও অস্থায়ী বিদেশি কর্মীদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে শ্রম শোষণ ও মানব পাচারের বিষয়টি সামনে এনেছে। চাকরি, কাজের অনুমতিপত্র কিংবা স্থায়ী বসবাসের সুযোগের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কাউকে শোষণ করা যে গুরুতর অপরাধ, আদালতের এ রায় তা আবারও তুলে ধরেছে।
মন্তব্য করুন
.png)
