শায়েস্তাগঞ্জে দুর্গোৎসবে ঘটেনি কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা, শান্তিপূর্ণ বিসর্জনে সমাপ্তি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ২:১২ এএম
শান্তিপূর্ণ বিসর্জনে সমাপ্তি
শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
আনন্দ, উৎসব ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে শায়েস্তাগঞ্জে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। গতকাল বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীর রাতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে ছয় দিনব্যাপী দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। পুরো উৎসবজুড়ে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
বিজয়া দশমীর দিন সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপে ভক্তদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। দশমীবিহিত পূজা, দেবীর চরণে অঞ্জলি নিবেদন ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি নেন ভক্তরা। দেবীকে বিদায় জানানোর মুহূর্তে উৎসবের আনন্দের সঙ্গে যুক্ত হয় বিষাদের আবহ।
বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে শায়েস্তাগঞ্জ শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে প্রতিমা নিয়ে শোভাযাত্রা বের করা হয়। পরে পুরান বাজারের খোয়াই নদীর পৌর ঘাটে একে একে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে শহরের বিসর্জন কার্যক্রম শেষ হয়। উপজেলার অধিকাংশ পূজামণ্ডপেও সন্ধ্যার আগেই প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটে।
বিসর্জন কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান, শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম, শায়েস্তাগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মাইনুল হাসান রতনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় এবার মোট ২০টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভায় ৯টি, ব্রাহ্মণডুরা ইউনিয়নে ৬টি, নুরপুর ইউনিয়নে ২টি এবং নিশাপট ইউনিয়নে ৩টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। পূজাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মণ্ডপ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন। বিজয়া দশমীর বিসর্জন ঘিরেও নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গোৎসব সম্পন্ন হওয়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে স্বস্তি বিরাজ করছে। উৎসব চলাকালে নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতারা।
সনাতন ধর্মীয় পঞ্জিকা অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গার আগমন ঘটেছে ঘোটকে (ঘোড়ায়) এবং গমন হয়েছে নৌকায়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবীর বাহনকে ঘিরে ভক্তদের মধ্যে শস্যবৃদ্ধি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণের নানা প্রত্যাশা রয়েছে।
প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবীকে বিদায় জানালেও ভক্তদের হৃদয়ে রয়ে গেছে উৎসবের আনন্দময় স্মৃতি। দেশ, জাতি ও বিশ্বের শান্তি, কল্যাণ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কামনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব। আগামী বছর আবারও দেবী দুর্গার আগমনের প্রত্যাশায় নতুন করে অপেক্ষা শুরু করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
মন্তব্য করুন
.png)
