লাইভ
×
Logo

তথ্য প্রযুক্তি

বাইন্যান্সে ৬.৩ বিলিয়ন ডলারের ক্রিপ্টো চুরি, ২০ মিনিটে ইতিহাসের বড় হ্যাক

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৩:৪৭ পিএম

বাইন্যান্সে ৬.৩ বিলিয়ন ডলারের ক্রিপ্টো চুরি, ২০ মিনিটে ইতিহাসের বড় হ্যাক

বাইন্যান্স ক্রিপ্টো হ্যাক

নিজস্ব প্রতিবেদক: মাত্র ২০ মিনিটের একটি সাইবার হামলায় বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্সের ওয়ালেট থেকে প্রায় ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের ডিজিটাল সম্পদ সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ২৯ অক্টোবরের এই হামলাকে ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চুরির ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করছেন বিশ্লেষকেরা।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান টিআরএম ল্যাবস ও চেইনঅ্যানালাইসিসের বিশ্লেষণে হামলাটির সঙ্গে উত্তর কোরিয়াভিত্তিক হ্যাকার গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে বাইন্যান্স এখনো হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করেনি।

কীভাবে ঘটল এই হামলা?

বাইন্যান্সের তথ্য এবং ব্লকচেইন লেনদেনের রেকর্ড বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন ব্লকচেইনে থাকা লেনদেন পরিচালনাসংশ্লিষ্ট ওয়ালেট থেকে বিপুল পরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি সরিয়ে নেওয়া হয়। হামলার বড় অংশ সম্পন্ন হয় মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে।

বাইন্যান্সের প্রাথমিক তদন্তে একজন প্রকৌশলীর ব্যবহৃত ল্যাপটপের নিয়ন্ত্রণ হারানোর বিষয়টি সামনে আসে। পরে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তদন্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও কয়েকটি দুর্বলতা বা অনুপ্রবেশের পথের সন্ধান পাওয়া গেছে।

টিআরএম ল্যাবসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হামলাকারীরা বাইন্যান্সের লেনদেন অনুমোদনকারী ‘সাইনিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার’-এর নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়েছিল। এর ফলে আক্রান্ত ওয়ালেটগুলো থেকে অর্থ সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া সম্ভব হয়।

বাইন্যান্স জানিয়েছে, গ্রাহকদের অর্থ সুরক্ষিত রাখতে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের ক্ষতি পূরণে কোম্পানির নিজস্ব তহবিল ব্যবহার করবে। প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রধান নির্বাহী রিচার্ড টেংও ক্ষতি পূরণের আশ্বাস দিয়েছেন।

চুরি হওয়া অর্থের কতটা উদ্ধার হয়েছে?

হামলার পর চুরি হওয়া অর্থ বিভিন্ন ডিজিটাল ঠিকানায় স্থানান্তরের চেষ্টা করা হয়। তবে বাইন্যান্স ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে চুরি হওয়া সম্পদের একটি বড় অংশ শনাক্ত ও জব্দ করা সম্ভব হয়েছে।

রয়টার্সের ৩০ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ শনাক্ত করা হয়েছিল। টেথার ও সার্কেলের মতো স্টেবলকয়েন ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানও সংশ্লিষ্ট কিছু সম্পদ জব্দ করেছে।

স্টেবলকয়েনের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এর ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল সম্পদ জব্দ করতে পারে। তবে বিটকয়েন ও ইথারের মতো বিকেন্দ্রীভূত ক্রিপ্টোকারেন্সি কোনো একক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে না থাকায় সেগুলো জব্দ করা তুলনামূলক কঠিন।

বিশ্লেষকদের মতে, হ্যাকাররা অর্থের উৎস আড়াল করতে বিভিন্ন ডিজিটাল ঠিকানায় লেনদেন ছড়িয়ে দিতে পারে। এ ধরনের লেনদেনের গতিপথ অনুসরণ করতে ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করছে।

হামলার পেছনে কারা থাকতে পারে?

টিআরএম ল্যাবস ও চেইনঅ্যানালাইসিসের বিশ্লেষণে হামলার সঙ্গে উত্তর কোরিয়াভিত্তিক ‘ট্রেডারট্রেইটর’ নামের হ্যাকার গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার সম্ভাবনা উঠে এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালে ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বাইবিটে চালানো বড় ধরনের সাইবার হামলার সঙ্গে বাইন্যান্সের এই ঘটনার কিছু কৌশলগত মিল রয়েছে। ওই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করেছিল।

তবে বাইন্যান্স জানিয়েছে, তদন্ত এখনো চলছে এবং হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কাজ করছে। উত্তর কোরিয়া অতীতেও এ ধরনের সাইবার হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ক্রিপ্টো বাজারে কী প্রভাব পড়েছে?

বাইন্যান্সে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বজুড়ে ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারে দরপতন দেখা যায়। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার বিটকয়েন ও ইথারের দাম কমে যায়। একই সঙ্গে ক্রিপ্টো খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জে সম্পদ রাখার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল সম্পদ খাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।

বাইন্যান্স জানিয়েছে, গ্রাহকদের অর্থের ক্ষতি পূরণে প্রতিষ্ঠানটি দায় নেবে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা শেষে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু করবে।

মন্তব্য করুন

Logo

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

চ্যানেল ৫ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত